মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন

অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দ্বিগুন ভাড়ায় চলছে সরকারী অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি॥ রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ ভাড়া হাতিয়ে নিয়ে চলছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। দীর্ঘদিন থেকে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে এক প্রকার জিম্মি করেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা নিচ্ছেন চালক মফিজ উদ্দিন। এতে করে যমুনা ব্রহ্মপুত্র বেস্টিত এ অঞ্চলের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রিত দুটি এবং উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। উক্ত তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অনেক দিন ধরেই অচল। অন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে চলে এখানকার রোগীদের সেবা কার্যক্রম। তবে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হয় গড়ে ৪-৫ জনের। সরকার কর্তৃক প্রতি ৫ কিলোমিটারে ১ লিটার জ্বালানি দেওয়া হয়। ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া সরকার কর্তৃক ৭শত টাকা নির্ধারণ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি উপজেলার ৫ লক্ষ মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হলেও চিকিৎসা সেবা সহ নানা অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলমান। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি সামান্য অসুস্থ রোগীদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে জামালপুর বা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। এ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে জামালপুর ও ময়মনসিংহ গেলে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হয় রোগীর স্বজনদের। ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া সরকার কর্তৃক ৭শত টাকা নির্ধারিত থাকলেও সেই ভাড়া তোয়াক্কা না করে রোগীর অসহায়ত্ব জিম্মি করে স্বজনদের নিকট ১৬শত টাকা নেন অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার। যা নির্ধারিত ফি’র দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি। ভাড়া নিয়ে ধর দাম করলে মূহুর্তেই যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অ্যাম্বুলেন্স চালক মফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলার দূর্গম যমুনার চর সাপধরী ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনে কিছুদিন আগে ফোন দিলে ড্রাইভার বলেন, আমি জেলাতে আছি। এরপর জামালপুর যাওয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জিজ্ঞেস করলে বলে, একদাম ১৬শ টাকা হলে যাবে না হয় অন্য ব্যবস্থা করেন। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স দরকার, রোগীর চিকিৎসা জরুরী। আর এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে বসে থাকে ড্রাইভার। এমন হীনমন্যতা ড্রাইভার অপসারণ জরুরী। নচেৎ দ্রুত সময়ে জেলা সদরে নিতে না পারায় চিকিৎসার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে।
পাথর্শী ইউনিয়নের শাপলা আক্তার বলেন, আমার দুলাভাইকে জামালপুরে নিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ১৬শ টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়াও অক্সিজেন ছিলনা অ্যাম্বুলেন্সে। অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও দ্বায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি অসহায়ত্বের সুযোগে ব্যস্ত। সরকারী হাসপাতালের এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন জরুরী। নচেৎ এই অমানুষদের কারণে অনেকের ভোগান্তিতে পরিনতি নেমে আসবে।
বিষয়টি নিয়ে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মফিজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে রোগীদের জিম্মি করে যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয় সেটা অন্যায়। বিষয়টি আমি দেখব।
এদিকে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, হাসপাতালের দালালচক্র দমন, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com